দেশ না ছাড়িলে দেশ মিলেনা -কিস্তি ৪


অবশ্য কিছুদিনের মধ্যে ফন, উস্টারকার্ড, পেজেগে, কিরিস, ডিরিঙ্ক ইত্যাদি শব্দের মানে আবিষ্কার করলাম। ফন মানে হচ্ছে পাউন্ড, উস্টারকার্ড মানে হচ্ছে ওয়েস্টার কার্ড আর পেজেগে মানে হচ্ছে পে এজ ইউ গো, কিরিস মানে হচ্ছে ক্রিস্প যাকে আমরা চিপস ও বলে থাকি আর ডিরিঙ্ক মানে হচ্ছে ড্রিংক। তবে উডনি মার্কেট যে শ্যাডুয়েলের ওয়াইটনি মার্কেট সেটা জানতে কয়েকদিন লেগেছিলো।
মূলতঃ আমাদের সিলেটের প্রবাসী এক শ্রেণীর বাঙালিরা কিছু ইংলিশ শব্দ তাঁদের নিজেদের মতো করে নিয়েছিলেন এর মধ্যে আরো আছে পেপসিকাম (ক্যাপসিকাম), ফেরাই ফান (ফ্রাই প্যান) লিবিস্টিক (লিপস্টিক), সিঙ (সিঙ্ক) পূরণ (প্রন) ……ইত্যাদি।

তবে সবচেয়ে মজার যে বিষয়টা জানলাম তা হলো বাসার নাম্বার যোগ করে খালা, নানী, ইত্যাদি ডাকা। যেমন যে খালা ২২ নাম্বার বাসায় থাকেন তিনি বাইশ লম্বরের খালা, যে ফুফু ৪২০ নম্বর বাসায় থাকেন তিনি ৪২০ লম্বরের ফুফু ইত্যাদি।

লন্ডন শহরের যে জিনিস মুগধ হয়ে যাবার মতো তা হলো শহরের হাজারো পরত। বাঙালিদের মধ্যে রয়েছে কয়েক লেয়ার, সেই সাথে আছে স্থানীয় শ্বেতাঙ্গদের জীবন যাত্রার নানান লেয়ার আর হাজারো বর্ণের হাজার দেশের মানুষ যেনো ক্রাউড সোর্সের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করে চলেছে হাজার বছরের পুরাতন এই শহরকে। এর মধ্যে আপনি আপনার স্থর বুঝে নিয়ে সেই স্থরের জীবন যাপন করবেন। আপনি কি মাল্টিলেয়ারে যাবেন নাকি শুধু বাঙালি হয়ে থাকবেন সেই একান্ত পছন্দ আপনার। আজন্ম বিশ্বজনীন হবার স্বপ্ন দেখেছি। তাই বাংলাকে সর্বাগ্রে ধারণ করে বহুসংস্কৃতির এবং বহুভাষীর সাথে একাত্ম হবার বাসনায় লোভাতুর হয়ে উঠছিলাম ধীরে ধীরে। তবে সব লেয়ারের মানুষই প্রচন্ড উল্কার বেগে জীবন এবং জীবিকার তাগিদে ছোটে চলে, ঠিক তেমনি ছুটির দিনে আয়োজন করে যে যার মতো আনন্দ উপভোগ করে।

যাই হোক পরদিন লিভারপুল স্ট্রিটের কাছাকাছি পেটিকোট লেইন থেকে আজাদ ভাই একটি বো টাই, একটা কালো প্যান্ট আর একটা সাদা শার্ট কিনে দিলেন। দেশ থেকে আগত শিক্ষিত ছক্কু মিয়া এবার বিলেতি বেয়ারা হবে। অনেকটা মান্না দে’র “এবার মলে সুতো হবো ….” গানের মতো । এতে নতুন কিছু জিনিস জানা যাবে আর কিছু কাঁচা টাকাও হাতে আসবে।

ইত্যবসরে মহামান্য রানীর দেশে দুর্গাপুজোর ঢাক বাজলো। প্রতি বছরের মতো এবারও আমাদের বাড়িতে পুজোর আয়োজন চলছে দেদারসে। সবাই আনন্দ করছে। প্রচন্ড মিস করছিলাম। তবে লন্ডনের টয়নবি হলের পূজা কিছুটা হলেও সেই কষ্ট দূর করলো।পুজোর সুবাদে দুই একজন বন্ধুবান্ধব আর সিনিয়র ভাইদের সাথে দেখা হলো। অনেকেই তখন কিভাবে এসব ভিসা কলেজদের সাথে ডিল করছেন তা এড়িয়ে যেতেন, অথবা আমার মতো সদ্যগত বাঙালকে হাইকুট দেখাতেন। এদের মধ্যে Robinদা আমার বছরখানেক আগে বিলেত এসেছেন।
একমাত্র রবিনদা’র কাছ থেকে আসল তথ্য পেয়ে একটু স্বস্তির নিঃস্বাস ফেললাম। পুজোয় গানা, খানা, পানা সব হলো। কয়েকটা সুন্দর দিন দ্রুত কেটে গেলো। সেই পুজোয় পরিচিত হলাম Arupদা’র সাথে। যার সাথে বন্ধুত্ব আজও অমলিন

পূজার পরেই খোদ ব্রিকলেনে সালিক’স নামে সালিক ভাইয়ের একটা রেস্টুরেন্ট ছিলো সেখানে উইকেন্ডে বার টেন্ডারের কাজ পেয়ে গেলাম। অবশ্য পরে সালিক ভাইয়ের সাথে খুব ভালো সম্পর্ক হয়ে গেলো। সালিক ভাই উনার ফ্ল্যাটে গানবাজনা আড্ডার আয়োজন করলে ডাকতেন। সেই কাজ ছেড়ে সপ্তাহ দুইয়েকের জন্য চলে গেলাম এসেক্সে। আরেকটা রেস্টুরেন্টে ওয়েটার হবো বলে। আমার ওয়েটার জীবনের সবচেয়ে শ্রেষ্ট কাজ ছিলো সেটা। সপ্তাহে দুদিন লণ্ডনে এসে পড়াশোনা করে যাই। এভাবেই চলল সপ্তাহ চারেক। এর পরেই ব্রিকলেনের সবচেয়ে পুরাতন “রেস্টুরেন্ট এমপ্লয়ি রিক্রুটমেন্ট ব্যুরো” শাহনান জব সেন্টারে কাজ পাই। ভাগ্যের কি খেলা। যে জব সেন্টার থেকে নিজে কাজ নিয়ে এসেক্স গেলাম, চার সপ্তাহের ব্যবধানে জব সেন্টারের চাবির গোছা আমার হাতে।

ক্রিশ্চিয়ান স্ট্রিটের বহুতল ভবন হার্কনেস হাউসের চিলে কোঠায়, চিলে কোঠার সেপাই হয়ে বাসা বাধলাম। সপ্তাহে পাঁচদিন কাজ করি।কাজের ফাঁকে সপ্তাহে দুইদিন দুপুরে দুটো ক্লাস করে যাই কলেজ থেকে। সেইসাথে শনিবারে আরেকটা বাংলা স্কুলের কোঅর্ডিনেটর হিসাবে কাজ করি পাঁচ ঘন্টা। তারই সাথে লুইসামে একটা রেস্টুরেন্টে শুক্র শনি দুদিন বিকাল ছয়টা থেকে রাট বারোটা পর্যন্ত ভাইগ্নার (ওয়েটার) জব করি। চরম ব্যাস্ত আমি। টার্গেট শুধুমাত্র টাকা জমিয়ে ভালো ইউনিভার্সিটি ভর্তি হওয়া।

চরম ব্যাস্ততার মধ্যেও প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙতো মন খারাপের বহর নিয়ে। কেনো যে এই মন খারাপ হতো আমি নিজেও জানিনা। এমনও হয়েছে, রবিবারের প্রচন্ড মন খারাপের সকালে দুই পেগ হুইস্কি গলদঃকরণ করে আবারো শুয়ে পড়তাম।
আর আমার পুরাতন পেটমোটা কম্পিউটারে বাজতো পন্ডিত জ্ঞান প্রকাশের কম্পোজিসনে আর বাণী সরকারের কণ্ঠে গান :

কুল ছেড়ে এসে মাঝ দরিয়ায়
পেছনের পানে চাই।
ফেলে আসা দিনে কি মায়া যে জানে
মন বলে ফিরে যাই ……

বন্ধুহীন বিবর্ণ শহরে আমার রবিবারের মন খারাপের বিকেল গুলো কাটতো কখনো টাওয়ার ব্রিজের তলায় বসে টেমস নদীর ঐপাড়ের সারি সারি আলো, যাত্রীবাহী ক্রুজের ছেড়ে যাওয়া হুইসেল আর বিয়ারের বোতলে চুমুক দিয়ে। আবার কখনো এমবেঙ্কমেন্ট ফুট ব্রিজে বসে সোনালী তরলের সাথে টেমসের জলের মিশ্রনের আশীর্বাদে।

ইতিমধ্যে এইখানেও কিছু বন্ধু বান্ধব হয়েছে। ধীরে ধীরে ইট পাথরের এই শহরকে আপন করে নেওয়ার চেষ্টা করছি। ইত্যবসরে খুব কাছের দুই একজন বন্ধুও চলে এসেছে লন্ডনে। শহরের চারিদিকে সাজ সাজ রব। চারপাশে উস্কানিমূলক আলোর ঝলকানি। সেন্ট্রাল লন্ডনের প্রতিটি ইট পাথর সেজেছে ময়ূরাক্ষীর সাজে। সান্তা ইজ কামিং টু দ্যা সিটি।

চারপাশে বাজছে Wham এর জনপ্রিয় গান :
Last Christmas, I gave you my heart
But the very next day you gave it away
This year, to save me from tears
I’ll give it to someone special …

ডিসেম্বরের কনকনে শীতের এক সকালে বাসা বদল করে উঠলাম সাউথ ইস্ট লন্ডনের লুইসাম টাউনের যে রেস্তোরাঁয় সপ্তাহান্তে কাজ করতাম সেই রেস্তোরাঁর দুতলার ফ্ল্যাটে। এতে করে বাসা ভাড়াটাও বাঁচানো গেলো আর সাথে রান্নাবাড়ার ঝামেলা থেকেও মিললো চরম মুক্তি।
যেহেতু আমার কোনো পে এস ইউ গো ফোন ব্যবহার করতাম সেহেতু দেশে কথা বলাটা ছিলো বিশাল বিভ্রাটের। ক্যানন স্ট্রিটের একটা ক্যাফেতে প্রতি ঘন্টা এক পাউন্ড করে ল্যান্ড লাইনে কথা বলা যেতো। আমি সেই ফোন বুথ ব্যবহার করতাম। বাহির থেকে কোবরা, বাংলা টক ইত্যাদি কার্ড কিনে বুথে ঢুকে নিমেষেই চলে যেতাম আমার শহরের বন্ধুদের কাছে।

তবে ধীরে ধীরে দেশে ফোন কলের সংখ্যা কমছিলো l লন্ডনে প্রথম দিকে দেশে প্রচুর ফোন করতাম l প্রেমিকা বৃন্দ, বন্ধু,বান্ধব ইয়ার,দোস্ত শুভাকাংখী ….l সময় আসলেই প্রমত্তা নদীর মতো l প্রবল স্রোতের মধ্যেও মায়ার হাতছানি দিয়ে জড়িয়ে রাখে আপাদমস্তক, আর খেলে ভাঙাগড়ার এক অদ্ভুত খেলা l

মনে আছে কোনো এক মন খারাপ করা বিবর্ণ ডিসেম্বরের রোববার বিকালl সাউথ ইস্ট লন্ডনের লুইশামের একটি কবুতরের খোপের মতো ঘরে মনের মধ্যে একরাশ মেঘ নিয়ে বসে আছি l মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে l মোবাইলে নেই ফ্রি মিনিট l কথা বলার কোনো উপায় নেই l নেই নিজের ল্যাপটপ l আর মায়ের কাছে নেই ইন্টারনেট l বার বার উপলব্ধি করছিলাম চার দেয়ালের বন্ধনে নিজের বেরঙিন নিশ্বাসের প্রতিধ্বনি l নিজের সাথে যুদ্ধ করে পরাস্ত আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে করেই হোক মায়ের সাথে কথা বলতেই হবে l এলাকায় নতুন আগন্তুক হিসাবে উপায়ান্তর না পেয়ে লি হাই স্ট্রিট ধরে হাঁটা ধরলাম লুইশাম স্টেশনের দিকে l গন্তব্য পূর্ব লন্ডনl ওখানে গেলেই একটা ব্যবস্থা হবে l
ট্রেনে উঠেই এক নিমিষেই ভালো হয়েগেলো মনটা l উপভোগ করতে শুরুকরলাম নাদুস নুদুস অজগরের মত দোলে দোলে চলা ডি-এল আর (ডক ল্যান্ড লাইট রেল ) এর ছন্দ l মনে হচ্ছিল বসে আছি এক লাল রঙের অজগরের ট্রান্সপারেন্ট পেটের মধ্যে l উপভোগ করছি সর্পিল ছন্দ আর মহামান্য রানীর দেশের বাহিরের সৌন্দর্য l

অবশেষে চিরচেনা শ্যাডউয়েল স্টেশনে ট্রেন পরিবর্তন করে ততকালীন ইস্ট লন্ডন লাইন ধরে হওয়াইট চ্যাপেল স্টেশনে নেমে প্রিয় বন্ধুর দেখা পেয়েই ফেললাম এক স্বস্থির নিঃশ্বাস ……(চলবে)

Advertisements

দেশ না ছাড়িলে, দেশ মিলেনা -কিস্তি -৩


আজাদ ভাইয়ের বাসায় ভাবীর হাতে পেট পুরে খেয়ে দেয়ে সোফা-বেডে লম্বা ঘুম দিয়ে পরদিন উঠলাম। ঘুম ভাঙতেই জানালা দিয়ে বিলাতি হেমন্তের রোদ এসে অভিবাদন জানিয়ে গেলো মহামান্য রানীর দেশে। সেপ্টেম্বরের লন্ডন। প্রায় বাংলাদেশের শরতের মতোই তীব্র নীল আকাশ জুড়ে উস্কানিমূলক শাদা মেঘের উড়ে চলা আর গায়ে কাঁটাদেওয়া অল্প বিস্তর শীত। বাড়ির সামনের খোলা জায়গায় প্রিমরোজ, ফিউশিয়া আর পিছুনিয়ারা ধীরে ধীরে শীতনিদ্রায় যাওয়ার পথে, অন্যদিকে ড্যাফোডিল, টিউলিপ আর হাইয়াছিন্থ ফুলের কন্দ আলতো করে উঁকি দিচ্ছে মাটির তলদেশ থেকে।

নাস্তা করেই বের হলাম আজাদ ভাইয়ের সাথে। চ্যাপমেন স্ট্রিট, ক্যানন স্ট্রিট ধরে কমার্শিয়াল রোড হয়ে ব্রিকলেন। যেদিকেই তাকাচ্ছি সেদিকেই আশ্চর্য হচ্ছি। কিভাবে এতো সুশৃঙ্খল ভাবে একটি দেশের সিস্টেম চলতে পারে। কিভাবে এতো ছোট রাস্তায় কোনোধরনের গ্যাঞ্জাম ছাড়া এতো এতো গাড়ি চলতে পারে। আর পাতালরেল নিয়ে আশ্চর্যের ঘোর আমার আজও কাটেনি।
তবে হোয়াটইচ্যাপেল এসেই বুঝতে পারলাম অত্র এলাকা চলে দেশি স্টাইলে। চারপাশে আমাদের শাশ্বত বাঙালি ভাইদের খোলা বাজারে সবজি বিক্রির হাঁকডাক, মোজা দিয়ে স্যান্ডেল পরা মুরুব্বি চাচার লুঙ্গি, পিলারের গোড়ায় পানের পিক আর স্পিকারে সোনাবন্দের গান জানান দিচ্ছিলো বন্দর বাজারের হাঁকডাক।
একটু ঘোরাঘোরি পরে কলেজে গেলাম। সে আরেক বিরাট ইতিহাস। অনেকটাই “দেখায় খাসি আর খাওয়ায় শুঁটকি” টাইপ অবস্থা। ওয়েবসাইট আর প্রসপেক্টাসের বাহারে বুঝার উপায়ই নাই ব্রিটেনের মতো একটি দেশে মুরগির খামারের মতো কয়েকটি খোপ খোপ রুমে একটি কলেজ পরিচালনা করাযায়। যাইহোক এসেই যখন পড়েছি তখন আপাতত এখান থেকে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র নিয়ে যথাসময়ে সঠিক রাস্তা গ্রহণ করবো এই পরিকল্পনা নিলাম।

পরদিন আবার গেলাম কলেজে। কিন্তু যাওয়ার সময় গোল পাকালাম রাস্তায়। মনে পড়লো ছেলেবেলায় পড়া এম আর আক্তার মুকুলের “লন্ডনে ছক্কু মিয়া” বইয়ের কাহিনী। একই রাস্তার প্রায় সব ঘরের সামনের ডিজাইন এবং দরজা সমান থাকায় লেখাপড়া না জানা ছক্কু মিয়া লন্ডনে এসে প্রায় প্রতিদিন নিজের বাড়ি ভেবে ভুল দরজায় নক করতেন। যেহেতু তিনি নাম্বার পড়তে পারতেন না সেহেতু তিনি ইট পদ্বতি আবিষ্কার করলেন। অর্থৎ উনার বাড়ির ড্রাইভওয়েতে চিহ্ন হিসাবে একটা ইট রেখেদিলেন যাতে চিনতে ভুল না হয়। কিছুদিন সব ঠিকঠাক। কিন্তু একদিন আরেক স্বদেশী দুষ্টলোক আবিষ্কার করলো ছক্কু মিয়ার ইট পদ্বতি। সেই দুষ্টলোক দিলো ইটটা সরিয়ে। ছক্কু মিয়া আবার খেলেন ধরা।

যেহেতু আমি পড়াশোনা জানা ছক্কু মিয়া। তাই সাহস করে এক এশিয়ান লোককে দেশি ইংলিশে বললাম “আই ওয়ান্ট টু গো ব্রিকলেন, প্লিজ টেল মি হাও ক্যান আই গো” লোকটি তখন আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো।
আমার চেহারায় চিরচেনা হিজল জারুলের ছাপ আর চোখে ঘাস ফড়িংয়ের ডানা দেখে সহজেই লোকটি বুঝলো আমি একজন ফ্রেশি বাঙালি। ফ্রেশি মানে আমরা যারা সদ্য বাংলাদেশ আসছি তাদের বুঝানো হয়। আদর করে ইস্ট লন্ডনের বখে যাওয়া বাঙালি ছেলেরা আমাদের মতো সদ্যগত বাংলাদেশিদের ফ্রেশি বলে 😀 । যাইহোক তার পরে লোকটি বললো
-ভাইছাব কিতা বাঙালি নি ?
– জ্বি ওয়।
-এই এলাকাত বেশিরভাগ মানুষ বাঙালি। ইনো বাংলায় মাতলে কুনু সমস্যা নাই। আইওউক্কা আমার লগে, আমিও হবায়দি যাইতাম।

লোকটাকে ফলো করতে করতে চলে গেলাম ব্রিকলেন। দেখা হলো এক দাদার সাথে। উনি আমার এক সময়ের মেস মেইট এবং আমার বন্ধুর ভাই। উনাকে দিয়ে কলেজের টিউশন ফি পে করিয়েছিলাম। অর্থাৎ উনার ভাইকে দেশে টাকা দিলাম আর উনি এখানে পে করলেন। যেহেতু উনি লন্ডন থেকে একটু দূরে থাকেন তাই তিনি উনার আসা বাবদ ট্রেন ভাড়াও আমার কাছ থেকে নিয়ে ছিলেন।
তবে আজ ট্রেন ভাড়া দাবি করেননি, কারণ উনার ভাই উনার জন্য একটা প্যাকেট আমার মাধ্যমে পাঠিয়েছে। প্যাকেট হস্তান্তরের পর তিনি ভাবেসাবে বুঝালেন উনি অনেক টাকা ইনকাম করেন। তারপরে হোয়াইট চ্যাপেলের ম্যাকডোনাল্ডে আমাকে চিকেন বার্গার মিল খাওয়ালেন। যদিও হালালখোরদের আধিক্যে হোয়াটচ্যাপলের ম্যাকডোনাল্ড আর নেই। খাওয়া শেষে বিলের টাকা বাংলাদেশী টাকায় কনভার্ট করে গর্ব করে বললেন কতটাকা হয়েছে। তখন অনেকের মধ্যেই এই পাউন্ড টাকায় কনভার্ট করার প্রবণতা দেখেছি।

সেদিনের মতো অধিবেশন সমাপ্ত করে বাড়ি ফিরে গেলাম। তবে ঐদিনের শিক্ষার অন্যতম হলো “পেজেগে” আর “উস্টার” কার্ড। এক ভাবি বললেন ভাই বাহিরে গেলে পেজেগে উস্টার কার্ড কিনে নেবেন । টাকা শেষ হলে টপ আপ করতে হবে।
আমিও আন্ডার গ্রাউন্ডের টিকেট বক্সে গিয়ে বললাম ক্যান আই হ্যাভ এ “পেজেগে উস্টার” কার্ড প্লিজ ? ….(চলবে)

দেশ না ছাড়িলে দেশ মিলেনা -কিস্তি ২


অজানা মুলুকের প্রতি যতই আমাদের রোমাঞ্চকর আগ্রহ থাকনা কেনো দিনশেষে একজন ছাঁপোষা মধ্যবিত্ত বাঙালির আশ্রয় হয় মায়ের আঁচলের হলুদে গন্ধ, পুরানো বাড়ির নোনাধরা দেয়াল, পিচ্ছিল কলতলা, মেসবাড়ির পাতলা ডাল আর মাছের ঝোল, অনেক বন্ধু আড্ডা আর অল্প প্রেম অথবা অপ্রেমের উপাখ্যান। অনেকটাই অঞ্জনদত্তের গানের মতো

আমার রাস্তা আমার বাড়ি
আমার ফাটা দেয়াল
আমার পোড়া মনের অজস্র জঞ্জাল
ভাঙছে কেবল ভাঙছে
শুধু যাচ্ছে ক্ষয়ে ক্ষয়ে
আমার রাত্রি আমারই সকাল

ফ্লাইটের আগের সন্ধ্যা পর্যন্ত মা ঠিকঠাক ছিলেন, রাত যত ঘনীভূত হচ্ছিলো মা ততই বিহ্বল হয়ে পড়ছিলেন। সে রাতে আমি মায়ের পাশেই ঘুমিয়ে ছিলাম। দুপুরে বিদায়ের প্রাক্কালে মা আমাকে জড়িয়ে ধরে অনেক কেঁদেছিলেন। আমার একমাত্র সহোদর সেও কেঁদেছিলো অঝোরে। কিন্তু কাঁদলেন না বাবা যদি আমিও ভেঙে পড়ি। সেই শৈশব থেকে মা বাবা আর আমরা দুইভাই, আমাদের চারজনের সংসারের এখন আর কেউ হুটহাট হোস্টেল থেকে গভীর রাতে বাড়ি ফিরবে না। হুটহাট রাগ করে চিৎকার চ্যাঁচামেচি করবে না। আর ঘরের ছোট ছেলেটা পুজোয় জামা কাপড় কিনবো বায়না ধরবে না। সেই এক রাতেই আমি কেমন যেনো বড়ো হয়ে গেলাম। মা আর বড় ভাই কাঁদলো কিন্তু কাঁদলাম না আমি আর বাবা। আমিও যেনো কেমন বাবার মতো হয়ে গেলাম।

বাবা, ভাই আর বন্ধুরা এসেছিলো আমাকে বিদায় জানাতে। তবে আমার মা সেদিন আমাকে বিমানবন্দরে বিদায় জানাতে আসেন নি। বস্তুতঃ তিনি কখনোই আমাকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে আসেন না। প্লেনে উঠার ঠিক শেষ মুহূর্তে বাবা আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। বাবার চশমার কাঁচ ভিজে উঠলো। আমার চোখেও জল। নিজের শরীরের সাথে আমাকে চেপে ধরে বাবা বললেন যতটুকু সম্ভব মনুষ্যত্ববোধ আর সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোদের গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। এতদিন আমার পরিচয়ে পরিচিত হয়েছিস । এখন নিজের পরিচয়ে পৃথিবীকে জানার পালা। ভালো থাকিস। ভালো হবে। তোর প্রতি এই আত্মবিশ্বাস আমার আছে।

ততক্ষণে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। আমার বিমান ততক্ষণে পশ্চিম আকাশে ডানা মেললো। পেছনে পড়ে রইলো নাটকের মহড়া, এমসি কলেজের আড্ডা, পান্জেরি প্রীতিরাজের তর্কময় সন্ধ্যা, দ্যাওরভাগা নদী আর প্রগতির মিছিলের স্লোগান।

সলিল চৌধুরীর গণসংগীতের মতো অজানার উদ্দেশ্যে যাত্রা আর জীবনের প্রথম খেচর হওয়ার তীব্র উত্তেজনায় যতটা রোমাঞ্চিত হচ্ছিলাম, ফেলে আসা স্বজন, বন্ধু বান্ধবী আর প্রেমিকাদের কথাভেবে জগজিৎ সিংয়ের গজলের মতো ঠিক ততটাই আর্দ্র হচ্ছিলো মন খারাপের মেঘ। বিমান দ্রুতবেগে এগিয়ে যাচ্ছে। গন্তব্য ইউরোপের অত্যাধুনিক শহর লন্ডন।

বিমানের কেবিনে নানা হাস্যকর ঘটনা আর দুবাইয়ে দুঘন্টা ট্রানজিটের পরে লন্ডন এসে পৌছালাম স্থানীয় সময় রাট ১০টায়। বিমানের জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি সারি সারি আলোর বহর । এ যেনো আলোর মিছিলে ক্লান্তিহীন দ্বীপাবলি চলছে বিলেতের উঠোনে।

ইমিগ্রেশন শেষ করে বাহিরে বের হয়ে এলাম। আগেই বলেছি লন্ডনে আমার নিজের কোনো আত্মীয় তখন ছিলো না। তবে যাকে আত্মীয়ের চেয়েও বেশি বললেও ভুল হবে না তিনি হলেন বাবার ছাত্র কমর আজাদ। বাবা উনাকে আদর ডাকতেন কমরু। লন্ডন আসার আগে উনাকে কখনো দেখেছি বলে স্মরণ হয়না। তবে অনেক গল্প শুনেছি। উনার প্রতি বাবার যে আত্মবিশ্বাস সেটা টের পেয়েছি আগেই। বাবা প্রায়ই বলতেন লন্ডনে কমরু আছে। তুই গেলে শুরুতে তোকে কোনো বেগ পেতে হবে না। আসলেই তাই। একটা লোককে আগে কখনো দেখিনি, তখন ফেইসবুক বা ছবি শেয়ারের কোনো সহজ উপায় ছিলো না, অথচ সেই লোক আমাকে দেখেই চিনে ফেললেন। হ্যান্ডশেইক করলেন এবং একটুখানি কথা বলেই বুঝলাম তাঁর আন্তরিকতা এবং ভালোবাসা। এর মধ্যে কমরুভাই ভাই কল দিয়েছেন দেশে বড় ভাইয়ের নাম্বারে , দেশে তখন প্রায় ভোর হয় হয় , মা বাবা আর ভাই তখনও নিদ্রাহীন। আমার সাথে কথা হলো, তাঁদেরকে বললাম আমি ঠিকঠাক পৌঁছে গেছি। কমরুভাইয়ের সাথে কথা বলে মা ও নিশ্চিন্ত হলেন।

কথা না বাড়িয়ে লাগেজ নিয়ে উনাকে অনুসরণ করতে করতে উঠে পড়লাম পৃথিবীর অন্যতম আশ্চর্য স্থাপনা লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডের নীল অজগরের মতো এঁকেবেঁকে যাওয়া পিকাড্যালি লাইন ট্রেনে। গন্তব্য শ্যাডোয়েল।

মনের মধ্যে বারংবার কড়া নাড়ছিলো কবির সুমনের গানের লাইন

এ শহরে এসছো তুমি কবে কোন রাজ্য থেকে
তোমাদের দেশে নাকি সব মানুষে বাঁশি শেখে …..
বাঁশুরিয়া বাজাও বাঁশি দেখিনা তোমায়,
গেঁয়ো সুর ভেসে বেড়ায় শহুরে হাওয়ায়

পথে গল্প করতে করতে কমরুভাই জিগ্যেস করেছিলেন আমি কি দেশে ফেরত যেতে চাই। আমার স্পষ্ট মনে আছে আমি বলেছিলাম সুযোগ থাকলে আমি এই দেশেই থাকতে চাই।
প্রায় মধ্যরাতে পৌঁছলাম শ্যাডোয়েল। স্টেশন থেকে বের হয়েই আমার চোখ চড়কগাছ। খোদ বিলাতের লন্ডন শহরে দোকানের সাইনবোর্ডে লেখা “শ্যাডোয়েল গ্রোসার্স” এবং “ইত্যাদি সুপার স্টোর” মনেহলো যেনো চিরচেনা টিলাগড় পয়েন্টেই আছি। ষ্টেশনের ঠিক উল্টো পাশে বিশাল বিল্ডিং ড্যালো হাউজে কমরু ভাইয়ের ফ্ল্যাট। ফ্ল্যাটে ঢুকেই দেখি ভাবি টেবিলে খাবার সাজিয়ে আমাদের অপেক্ষা করছেন। একটু ফ্রেশ হয়ে দেশি খাবারে সাজানো খাবার টেবিলে বসে খাবার টেবিলটাকেই মনে হলো এক টুকরো বাংলাদেশ …(চলবে)

প্রথম পর্বের লিংক : href=”https://ashmche82.wordpress.com/2018/09/15/%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%95-2/”>

দেশ না ছাড়িলে দেশ মিলেনা -কিস্তি ১


বেশিরভাগ প্রবাসী বাঙালির জীবনের গল্প এক একটি থ্রিলার উপন্যাস হতে বাধ্য। তেমনি এক মুহুর্মুহু উত্তেজনার মধ্যদিয়ে বছর বারো আগে বিলেতে পাড়ি জমাই। সদ্য মাস্টার্স শেষ করেছি তখন। চোখের সামনে তৎকালীন অদম্য বিএনপি জামায়াতের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা আর লুটপাটের একের পর এক ঘটনা ঘটে চলছিলো।
চারপাশে বোমা হামলা, বাংলাভাই, বাবর, গিয়াস আল মামুন, হারিস চৌধুরী, তারেক রহমান, কে এম হাসান, প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন …..এমন হাজার হাজার নামের ভিড়ে নিজেকে পিঁপড়া থেকেও সামান্য মনে হচ্ছিলো।

এমতাবস্তায় সিদ্ধান্ত নিলাম দেশত্যাগী হবো। বলাই চন্দ্র শীল তার নিমাই সন্ন্যাস কীর্ত্তন এলব্যামে গেয়ে ছিলেন
“দেশ না ছাড়িলে, দেশ মিলেনা
আমি যে দেশের লাগিয়ে কাঁদিয়া বেড়াই,
ভাইরে দেশ না ছাড়িলে দেশ মিলেনা ….

সেই গান তখন বার বার মনে পড়ছিলো। সাথে ভয়ংকর একটা তাগিদ অনুভব করেছিলাম দেশত্যাগ করার জন্য। কারণ যে দেশে চোখের সামনে মুজাহিদ, সাঈদী, নিজামীরা চোখের সামনে মুক্তিযুদ্ধকে পদদলিত করে লাল সবুজ পতাকা পতপত করে গাড়িতে উড়িয়ে বলছে রাজাকার বলে কিছু নেই। আমার চেয়ে শক্তিধর মানুষেরাও এদের কিছু করতে পারছেনা সেখানে আমি কোন ছার?
অন্যদিকে চোখের সামনে বিশ ট্র্যাক অস্ত্র ধরার পরে ছোট করে কাটা চুলে পিচ্ছিল জেল মাখিয়ে সজারুর কাঁটার মতো উর্ধমুখীকরে তাক করিয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলছেন “উই আর লুকিং ফর শত্রুজ” চোখের সামনে সতীর্থের রক্ত গঙ্গায় বারংবার অবগাহনের পরেও বিচার না পাওয়ার অব্যাক্ত চাপা কষ্ট।
সরকারি অবহেলায় শিশু মৃত্যুর পরে আরেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলছেন “আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছেন”
নবান্নের দিনে কৃষাণীর চুলায় খৈ ফোটার চেয়েও দেশে বেশি ফাটছে বোমা। খুন হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষেরা। স্বদর্পে প্রধানমন্ত্রীর সন্তানেরা টাকা পাঁচার করে টাকশাল বানাচ্ছে গড়ের মাঠ। ছাত্রদল অথবা ছাত্রশিবির না করলে চাকুরিও প্রায় অনিশ্চিত। তেমনই অনিশ্চিত এক দেশে বেঁচে থাকাটাই যেখানে পুরস্কার সেখানে চাকুরী ব্যবসা এসব প্রায় চিন্তার বাহিরে।

এমনি এক ক্রান্তি লগ্নে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই পরাজিত সৈনিকের মতো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাত্রা শুরু করলাম আত্মীয়হীন,স্বজনহীন,বন্ধুহীন, ফেসবুকহীন এক শহরের পানে। শহরের নাম লন্ডন। ওই মুহূর্তে প্রধান উদ্দেশ্য এমবিএ করা হলেও লংটার্ম উদ্দেশ্য হলো এই শহরেই জীবনের বাকি সময়টা পার করে দেওয়া। ওই সময়ে সমসাময়িক অনেকেই ভনিতা করে বলতেন পড়াশোনা শেষ হলেই দেশে ফিরে যাবো। তাদের মধ্যে একমাত্র আমিই ছিলাম যে সকল দ্বিধা দ্বন্দ ঝেড়ে ফেলেদিয়ে বলতো ভাই সুযোগ পেলে আমি আর স্থায়ীভাবে খালেদা তারেকের দেশ ফিরবোনা কখনোই …

তেমনি এক শরতের বিকেল। ২০শে সেপ্টেম্বর। শরতের বিকেলের সোনারোদ মাড়িয়ে সকল ভালোবাসার বন্ধনকে দলিয়ে নিঃসঙ্গ গাংচিলের মতো বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের সস্তা কেবিনে উঠে পড়লাম।
পকেটে বাবার দেওয়া পঞ্চাশ পাউন্ডের দশটি নোট, জীবনবোধ এবং একগাদা আত্মবিশ্বাস আর বুকপকেটে মায়ের ভালোবাসা।
বুকের মধ্যে বইছিলো তুমুল ঝড় আর মনের মধ্যে অঞ্জন দত্তের গান
একটু ভালো করে বাঁচবো বলে
আর একটু বেশি রোজগার
ছাড়লাম ঘর আমি ছাড়লাম ভালোবাসা
আমার নীলচে পাহাড় ……(চলবে)

সচেতন হোন, রুখে দিন বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু


অনেকেই হয়তো জানেন না  পৃথিবীর নানা অংশে প্রতিদিন অন্তত  একশো মিলিয়ন বার বজ্রপাত ভূপৃষ্ঠ স্পর্শ করে। প্রতিটা বজ্রপাত কমপক্ষে এক বিলিয়ন ভোল্ট ইলেক্ট্রিসিটি তৈরী করে, যা দিয়ে একশ ওয়াটের একটি বাল্ব তিনমাস জ্বালানো যায়। কয়েক সেকেন্ডের বজ্রপাতের আর্থিং ২৭৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হিট উৎপন্ন করে । যা নিমেষেই ছারখার করেদিতে পারে যেকোনো কিছু। আদতে হচ্ছেও তাই। গত দুই সপ্তাহে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু মহামারী আকার ধারণ করেছে। প্রাণহন্তারক বজ্রপাত নিমেষেই ছারকার করে দিচ্ছে এক একটি কৃষকের প্রাণ, পরিবার এবং স্বপ্ন।

গত কয়দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ছবি বারবার চোখের সামনে ভাসছে।  ধান গাছের চারা মুঠি ধরা হাতে বজ্রপাতের শর্টসার্কিটে কয়লা হয়ে যাওয়া এক কৃষকের মুখ। গত কয়দিন ধরে প্রতিবার ভাত খাওয়ার সময়ে   যে মুখ বারবার চোখের সামনে এসে অদৃশ্য চপেটাঘাত করে যাচ্ছে। মনখারাপের মাত্রা আরো বহুগুন বেড়ে গেলো আজকের সকালে আমার গ্রামের দুজন জেলের মৃত্যুর খবরে। ভাত মাছ বাঙালির প্রধান খাদ্য, কিন্তু সেই কৃষক আর জেলেদের জীবন আজ এক ভয়ংকর সংকটে।  সেই চপেটাঘাত আর নিজের অপরাধী মনকে শান্ত করতে এবং সংকট থেকে উত্তরণের পথ বিশ্লেষণে এই লেখার সূত্রপাত।

বজ্রপাত ও কিছু বিভ্রান্তি

এবার আসুন পদার্থ বিজ্ঞানের সহায়তা নিয়ে কেনো বজ্রপাত হয় তার একটি সহজ বিশ্লেষণ করি। সূর্যের রশ্মি থেকে উৎপাদিত শক্তি গরম আবহাওয়া সৃষ্টি করে। এর সাথে আরো তৈরী করে টর্নেড, হ্যারিকেন এবং বৃষ্টি। সূর্য তার চারদিকে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন হলো দৃশ্যমান আলো, রেডিও তরঙ্গ, গামা রশ্মি এবং এক্স রশ্মি’র সমষ্টি। এই ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন মহাকাশ থেকে শুরু করে মাটি পর্যন্ত সর্বত্র বিস্তার করে।
পৃথিবীর সারফেইস সূর্য থেকে এই ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন শুষে নেয় এবং তা হিটে রূপান্তর করে।

যেহেতু আমাদের পৃথিবী ঘূর্ণায়মান এবং সূর্যের চারপাশে ঘুরছে তাই সূর্যের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশ পৃথিবীর সব প্রান্তে সমান ভাবে পৌঁছায় না। তাই একই সময়ে পৃথিবীর কোনো অংশে অধিক গরম আবার অন্য অংশে অধিক ঠান্ডা অনুভূত হয়। এই অসমান তাপমাত্রা পৃথিবীর আবহাওয়াকে পরিবর্তন করতে সাহায্য করে।

যখন একটি অঞ্চলের সারফেইস অধিক হিট উৎপন্ন করে তখন তা ওই অঞ্চলের উপরের বাতাসকেও গরম করে তোলে।এতে অধিক জলীয়বাষ্প হয়। উষ্ণ জলীয়বাষ্পময় বাতাস ঠান্ডা বাতাসের চেয়ে হালকা। তাই এর গতি থাকে ঊর্দ্ধপানে। অনেকটা বাবলের মতো। ঠিক ওই সময়ে ঠান্ডা বাতাস উর্ধপানে ধাওয়া বাতাসের শূন্যস্থান পূরণ করে। যাকে ইংরেজিতে বলে কনভেকশন।
যার ফলে উপরের দিকে উঠতে থাকা অনেক বাষ্প কণা বেশ কিছু ইলেকট্রন হারায়। এই মুক্ত ইলেকট্রন গুলো মেঘের তলদেশে জমা হয় এবং ইলেকট্রন হারানো পজিটিভ চার্জিত বাষ্পকণা মেঘের একেবারে উপরপৃষ্ঠে চলে যায়। যার ফলশ্রুতিতে মেঘগুলো শক্তিশালী ধারক বা ক্যাপাসিটর এর বৈশিষ্ট্য লাভ করে। মেঘের দুই স্তরে চার্জ তারতম্যের কারণে সেখানে শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি হয়। এই বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের শক্তি মেঘে সঞ্চিত চার্জের পরিমাণের উপর নির্ভর করে।

এভাবে বাষ্পকণা এবং মেঘ একে ওপরের সাথে সংঘর্ষ করতে করতে একসময়ে মেঘের উপরিভাগে গিয়ে জমা হয় সব পজেটিভ চার্জ আর সব নেগেটিভ চার্জ এসে যুথবদ্ধ হয় মেঘের তলানিতে। যা খুবই শক্তিশালী নেগেটিভ বৈদ্যুতিক স্পেইস তৈরী করে যার প্রতিক্রিয়ায় পৃথিবীর সারফেইসে অবস্থানরত সকল ইলেক্ট্রন ভুপৃষ্টের আরো গভীরে চলে যায়। ফলে নিদৃস্ট এলাকার ভূপৃষ্ঠ হয়ে পড়ে পজেটিভ বিদ্যুৎ ক্ষেত্র। আমরা জানি পজেটিভ নেগেটিভ েকে অন্যকে আকর্ষণ করে। ঠিক যেমন আপনি আকর্ষিত হন আপনার বিপরীত লিঙ্গের প্রতি। এই আর্কষণকে একে অন্যের কাছ পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য দরকার মাধ্যম। আমরা সবাই জানি বাতাস বিদ্যুৎ অপরিবাহী। তাহলে মেঘের তলানির নেগেটিভ চার্জ আর ভুপৃষ্টের পজেটিভ চার্জ কেমনে একে অপরকে আকর্ষণ করে বজ্রপাত সৃষ্টি করবে ?

যারা এই নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে আছেন তাদের জন্য, মেঘের দুর্দন্ড প্রতাপপূর্ন বিদ্যুৎ ক্ষেত্র প্রচন্ড চাপের মাধ্যমে বাতাসের অপরিবাহি চরিত্র বিনাশ করে দেয়। যা Dielectric Breakdown নামে পরিচিত। এই ব্রেকডাউনের ফলে বাতাস মেঘ এবং ভুপৃষ্টের মধ্যে বিদ্যুৎ চলাচলের মাধ্যম হিসাবে কাজ করে শর্ট সার্কিট তৈরী করে দেয় এবং বজ্রপাতের সৃষ্টি করে। ঠিক যেমন বর্তমান যুগে মেসেঞ্জার, মধ্যে যুগে পোস্টম্যান আর তারও আগে কবুতর প্রেম বার্তা পৌঁছেদিয়ে হৃৎকমলে কম্পন সৃষ্টি করে।

শুধুমাত্র আমেরিকায় বছরে প্রায় হাজার খানেক মানুষ মারা যায় বজ্রপাতে। যা ঐদেশে অন্যসব প্রাকৃতিক কারণে ঘটিত মৃত্যুর চেয়েও বেশি। আমেরিকার ফ্লোরিডায় বজ্রপাতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।তবে গত করেকবছর ধরে বাংলাদেশে বজ্রপাতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে খুবই উচ্চহারে। যার প্রধান কারণ হলো জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ দূষণ। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন যে, বজ্রপাত ক্রমাগত পরিবেশ দূষণের ফলে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফল। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ভূপৃষ্ঠ থেকে বেশি বেশি পানি বাষ্পীভূত হয়ে অতিরিক্ত মেঘমালার সৃষ্টি হচ্ছে। এত বজ্রপাত তুলনামূলকভাবে বাড়ছে। এছাড়াও এ ব্যাপারে ২০১৪ সালে University of Berkeley থেকে একটি গবেষণা পরিচালিত হয়। প্রতি ডিগী সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বজ্রপাত ১২ শতাংশ বেড়ে যায় বলে উক্ত গবেষণা থেকে জানা যায়। এ শতাব্দী শেষ বজ্রপাত ৫০ ভাগ বেড়ে যেতে পারে বলে গবেষকরা আশংকা করেন।

তবে কিছু নিরাপত্তা বিধান মেনে চললে বজ্রপাত রোধ করতে না পারলেও বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় যেমন
-বাসা বাড়ি বানানোর সময়ে আরথিং সিস্টেম রাখুন
-গাড়িতে থাকলে সব জানালা বন্ধ রাখুন
-ঘরের ভেতরে থাকলে দরজা জানালার কাছ থেকে দূরে থাকুন।
-সব চেয়ে ঝুঁকি পূর্ণ হলো খোলা জায়গা যেমন খেলার মাঠ, গাছ শূন্য হাওর অথবা ধানক্ষেত। সুতরাং ঝড় শুরু হলে খোলা জায়গা থেকে দ্রুত সরে যান। তবে ভুলেও খোলা জায়গার সবচেয়ে উঁচু গাছের নিচে আশ্রয় নেবেন না। কারণ বজ্রপাত সবচেয়ে উঁচু গাছ অথবা স্থাপনার উপরে হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। খোলা মাঠে যেহেতু আপনি সবচেয়ে উঁচু সুতরাং আপনার উপরেই বজ্রপাতের আশংখা বেশি। আবার যদি সবচেয়ে উঁচুগাছের নিচে আশ্রয় নেন তবে সেখানেও আশংকার পরিমান প্রায় সমান। মাঠে গাছ থাকলে গাছের নিচে না গিয়ে বরং কুঁজো হয়ে যতদূর সম্ভব মাটি ঘেঁষে বসে পড়ুন।
– ধাতব বস্তু সহ ম্যাশিনারি থেকে দূরে থাকুন
– বাসাবাড়ি অথবা খোলা জায়গায় পানির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন . কারণ পানি খুবই শক্ত বিদ্যুৎ পরিবাহী পদার্থ।
– বৈদ্যুতিক তার এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ থেকে দূরে থাকুন।

মোদ্দাকথা  যেহেতু বজ্রপাত সংগঠিত হওয়ার সময়ে উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় সেহেতু উচ্চ বিদ্যুৎ পরিবাহী বস্তু থেকে নিজেকে এবং পরিবার পরিজনকে দূরে রাখুন ।

বজ্রপাত রোধ করতে প্রধান কাজ হলো আপনার চারপাশের পরিবেশ দূষণ এবং জলবায়ু দূষণ রোধ করা। প্রচুর পরিমাণে গাছপালা লাগানো। হাওর অথবা খোলা মাঠে তাল জাতীয় গাছ লাগানো। যাতে পাতা পঁচে এবং ছায়া পড়ে ক্ষেত নষ্ট না হয় আবার বজ্রপাতের হাত থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।
কেবল জনসচেতনতা তৈরী করে প্রায় আশি ভাগ বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব।সুতরাং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হলো বজ্রপাতজনিত মৃত্যু রোধ করার  সবচেয়ে মোক্ষম পদক্ষেপ। স্বউদ্যোগে পরিবেশ দূষণ বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া, প্রচুর পরিমানে গাছ লাগানো আর বজ্রপাতের সম্ভাব্য সময়ে নিরাপত্তা মূলক ব্যবস্থা নিলেই বজ্রপাতের হিংস্র থাবাকে বহুলাংশে রুখে দেওয়া সম্ভব।

তুমি আইলে


তুমি আইলে আমরা দুইজন যাইমু গাঙ্গর ফারো
তোমার লাগি দরিয়া আনমু ময়না টিয়া হারো l
 
বিয়ালি বালা গাঙ্গর বাতাস কাড়িয়া নেয় ফ্রান
সেই বাতাসে লাইন মারমু ওগো সোনাভান ll
 
দুরুমচান্দী কইমু আমি ফাইছি তোমারে ভালা
তুমি আমার কইলজার টুকরা, উদলা দরজার তালা।
 
তুমি আমার ডেফলর টক, জলঢুপি আনারস
রূপের আফাল দিয়া আমার মন খরছো বশ।
 
জিন্নাত্তি উঠে তোমার কথা মনে হইলে
জালাতাইশ শুরু হয় বেহায়া এই শইল্লে।
 
কবিরাজের ভরণ দিয়াও হয়না ঠান্ডা মাথা
আগলডাইয়া কইয়া লোকে মনে দেয় ব্যাথা।
 
তুমি আইলে কমবে মনের কিতাকিতা করা
তুমার জন্য রাখছি তুলে সিলেটি হাতকরা।
 
অনেকেই মনেকরেন বাংলা ভাষা হোমজিনিয়াস হোক। সবাই প্রমিত ভাষায় কথা বলুক। আমি বলি উপভাষা হচ্ছে একটি ভাষার বৈচিত্র। বৈচিত্র বেঁচে থাক। উপভাষার চর্চা বেঁচে থাক।
 
এই কবিতা আসামের ধর্মনগরের এক স্বভাব কবি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা। যিনি বলেছেন অন্য ভাষা কিংবা উপভাষা শিখতে আপত্তি নাই।
হিকো হিন্দি, হিকো ইংলিশ, অসমীয়া কি উড়িয়া
মাতৃ ভাষা না জানলে ফানিত মরো বুড়িয়া।

বসন্ত


 

বসন্তকে বরণ করে নিতে শহর থেকে গ্রাম এগিয়ে থাকার কথা ছিলো। কথা ছিলো কৃষক অবারিত মাঠের দিগন্ত জোড়া হলুদ সর্ষে ক্ষেতে বরণ করে নেবে বসন্ত। কথা ছিলো সদ্য দুধ আসা বোরো ধানের ক্ষেতে কৃষক উদযাপন করবে বসন্ত আগমনী।

চৌচালা টিনের ঘরের পাশে সদ্য ফোটা রক্ত জবা ফুলের যে গাছটা আছে সেই গাছে কোকিলের স্বরে কৃষক বউ সরিষা ফোড়ন দিয়ে সাজনা চচ্চড়ি আর সোনা মুগের ডাল দিয়ে বরণ করে নেবে বসন্ত কে।

বসন্ত আসার কথা ছিলো মায়ের শাড়ি আর লাল টিপ পরা সদ্য যৌবনা কিশোরীর প্রতিটি শিহরণে। অথবা প্রারম্বিক যৌবনে তরুণ চিত্ত উদাস করা দখিনা বাতাসে।

কিন্তু সব উল্টো পাল্টার দেশে আবহমান বাংলার বসন্ত আগমনী হয় শুধুই শহরে।

কর্পোরেট দানবদের দৌরাত্ব অথবা অন্য যে কারণেই ফুল ফুটুক অথবা না-ই ফুটুক বসন্ত এসে গেছে।

১টি স্বপ্নে পাওয়া সংবাদ শিরোনাম


কোনো এক বসন্তের হিম হিম সকালে
অস্ত্রাগারের প্রতিটি পারমাণবিক বোমা হয়ে উঠলো
পেল্লাই সাইজের এক একটি সূর্য্যমুখী ফুল।

অত্যাধুনিক মিসাইল হলো জীবন্ত গোলাপ গাছ,
আর, তাতে লাল, কালো, সাদা গোলাপ হয়ে
থরে থরে ফুটে আছে দুধর্ষ কার্তুজ।

নব্য প্রযুক্তির রাইফেল গুলো
তাদের ধাতব পরিধান ত্যাগ করে
দোয়েল, ময়না, সারস পাখি হয়ে দখিনা মাতাল বাতাসে
মনের আনন্দে গাইতে লাগলো আহা আজি এ বসন্তে …..

অস্ত্রাগারের পুষ্পকুঞ্জ রূপ দেখে
ট্রাম্প, পুতিন, কিম জং উন দের মতো যুদ্ধবাজরা
দিকভ্রান্ত প্রেমিকের মতো ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান …
গাওয়া ছাড়া গত্যান্তর রইলো না।

“আপনারা এতক্ষন শুনলেন একটি স্বপ্নে পাওয়া সংবাদ শিরোনাম”

১৮/০১/২০১৮
১৭.৩০ pm
কুইন্স হাসপাতাল

মির্জা গালিবকে ধারণ করা কঠিন। কিন্তু চেষ্টা করতে ক্ষতি কি ?


(১)
দিলে নাদা তুযে হুয়া ক্যায়া হে
আখির ইস দরদ কি দাবাহ কেয়া হে।

প্রিয়তমা,
কি এমন কষ্টের দিয়া জ্বালিয়ে রেখেছো মনে ?
জরা ব্যাধির বৈদ্য আছে জানি
কষ্টের সলতে নেভানোর সাধ্য নেইকো কোনজনে।

(২)
হামকো উনসে ওয়াফা কি হ্যায় উম্মীদ
যে নেহি জানতে ওয়াফা ক্যায়া হ্যায়

শুধুই চেয়েছিলাম বিশ্বাস,
ভালোবাসার বদলে
সে বিশ্বাসঘাতক নিজেও জানেনা
বিশ্বাস কাকে বলে।

(৩)

আশিকী সবরো তলব
অউর তামান্না বেতাব,
দিলকা ক্যয়া রংগ করু
খুনে জিগার হোনে তোক।
 
ভালোবাসা হলো শান্ত, গাঢ়, ধৈর্য্যবতী দীঘি
অধৈর্য আমি কেমনে রুখি প্রাণ,
প্রতিটি বিপলে জলজ প্রেমের স্পৃহায়
অদৃশ্য ক্ষরণে বইছে এ বুকে রক্ত গঙ্গা নদী।

Create a free website or blog at WordPress.com.

Up ↑